ম্যাগনেসিয়ামসমৃদ্ধ খাবার ও ম্যাগনেসিয়ামের ঘাটতি

ম্যাগনেসিয়ামসমৃদ্ধ খাবার ও ম্যাগনেসিয়ামের ঘাটতি

ম্যাগনেসিয়াম মানবদেহের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খনিজ উপাদান। এটি শরীরের প্রায় ৩০০টিরও বেশি এনজাইমের কার্যক্রমে সহায়তা করে। পেশি ও স্নায়ুর স্বাভাবিক কার্যকারিতা, হাড়ের গঠন, হৃদযন্ত্রের সুস্থতা এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ম্যাগনেসিয়ামের ভূমিকা অপরিসীম। প্রতিদিন সঠিক পরিমাণে ম্যাগনেসিয়াম গ্রহণ না করলে শরীরে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

ম্যাগনেসিয়ামসমৃদ্ধ খাবার

প্রাকৃতিক অনেক খাবারেই পর্যাপ্ত পরিমাণে ম্যাগনেসিয়াম রয়েছে। সেগুলো নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখলে ম্যাগনেসিয়ামের চাহিদা সহজেই পূরণ করা যায়।

সবুজ শাকসবজি ম্যাগনেসিয়ামের অন্যতম ভালো উৎস। পালং শাক, কলমি শাক, লাল শাক ও ব্রকলিতে প্রচুর ম্যাগনেসিয়াম পাওয়া যায়। কারণ এসব শাকের ক্লোরোফিলে ম্যাগনেসিয়াম থাকে।

বাদাম ও বীজজাত খাবার ম্যাগনেসিয়ামে খুবই সমৃদ্ধ। কাজু বাদাম, কাঠবাদাম, চিনাবাদাম, তিল, কুমড়ার বীজ এবং সূর্যমুখীর বীজ নিয়মিত খেলে শরীর ম্যাগনেসিয়াম পায়।

ডাল ও শস্যজাত খাবারও ভালো উৎস। মসুর ডাল, মুগ ডাল, ছোলা, রাজমা, ওটস, বাদামি চাল এবং গমে ম্যাগনেসিয়াম থাকে। পরিশোধিত চাল বা ময়দার পরিবর্তে সম্পূর্ণ শস্য গ্রহণ করা বেশি উপকারী।

ফলমূলের মধ্যে কলা, অ্যাভোকাডো এবং শুকনো ডুমুর ম্যাগনেসিয়ামের ভালো উৎস। এছাড়া ডার্ক চকলেটেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ম্যাগনেসিয়াম রয়েছে, যা পরিমিত পরিমাণে খাওয়া যেতে পারে।

দুধ ও দুগ্ধজাত খাবারে ম্যাগনেসিয়াম মাঝারি মাত্রায় থাকে। পাশাপাশি সামুদ্রিক মাছ যেমন ম্যাকারেল ও স্যামনেও ম্যাগনেসিয়াম পাওয়া যায়।

ম্যাগনেসিয়ামের ঘাটতি (ডেফিসিয়েন্সি)

শরীরে ম্যাগনেসিয়ামের ঘাটতি হলে একে হাইপোম্যাগনেসেমিয়া বলা হয়। এই ঘাটতির কারণে শরীরে নানা শারীরিক ও মানসিক সমস্যা দেখা দিতে পারে।

ম্যাগনেসিয়ামের অভাবে পেশিতে টান ধরা, খিঁচুনি, দুর্বলতা ও ক্লান্তি অনুভূত হয়। অনেক সময় হাত-পা ঝিনঝিন করা বা কাঁপাও দেখা যায়। স্নায়ুতন্ত্রে প্রভাব পড়ায় উদ্বেগ, বিষণ্নতা, ঘুমের সমস্যা এবং মনোযোগের অভাব হতে পারে।

দীর্ঘদিন ম্যাগনেসিয়ামের ঘাটতি থাকলে হৃদস্পন্দন অনিয়মিত হতে পারে এবং উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়ে। এছাড়া হাড় দুর্বল হয়ে অস্টিওপোরোসিসের সম্ভাবনাও দেখা দেয়। ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে ম্যাগনেসিয়ামের ঘাটতি রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণকে আরও কঠিন করে তোলে।

অতিরিক্ত মদ্যপান, দীর্ঘদিন ডায়রিয়া, কিছু ওষুধের ব্যবহার এবং অপুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাস ম্যাগনেসিয়ামের ঘাটতির প্রধান কারণ।

উপসংহার

ম্যাগনেসিয়াম শরীরের সুস্থতার জন্য অত্যন্ত জরুরি একটি খনিজ। সুষম খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে প্রতিদিন ম্যাগনেসিয়ামসমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করলে সহজেই এই ঘাটতি প্রতিরোধ করা যায়। তাই সুস্থ থাকতে সবুজ শাকসবজি, ডাল, বাদাম ও সম্পূর্ণ শস্যকে খাদ্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। 

Comments

Popular posts from this blog

The Potential Impact of World War III on Small Nations Around the Globe:

Can Mars Be Habitable for Humans?

এক পায়ে মৃত্যু, অন্য পায়ে মুক্তি (মাছি)