কিডনি ডায়ালাইসিস রোগীর খাদ্যাভ্যাস কেমন হওয়া উচিত
কিডনি ডায়ালাইসিস একটি গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা পদ্ধতি, যা শরীরের অতিরিক্ত তরল ও বর্জ্য পদার্থ দূর করতে সাহায্য করে। তবে ডায়ালাইসিস পুরোপুরি সুস্থ কিডনির কাজ করতে পারে না। এজন্য রোগীদের বিশেষ খাদ্য নিয়ম মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি। সঠিক খাদ্যাভ্যাস শুধু শক্তি জোগায় না, বরং জটিলতা কমায় এবং জীবনের মান উন্নত করে।
ডায়ালাইসিস রোগীদের জন্য প্রোটিন একটি অপরিহার্য উপাদান। ডায়ালাইসিসের সময় শরীর থেকে কিছু প্রোটিন বের হয়ে যায়, তাই অতিরিক্ত প্রোটিন গ্রহণ করতে হয়। মুরগির মাংস, মাছ, ডিমের সাদা অংশ ইত্যাদি ভালো প্রোটিনের উৎস। তবে প্রসেসড মাংস, যেমন সসেজ বা বেশি লবণযুক্ত মাংস এড়ানো উচিত।
সোডিয়াম, পটাশিয়াম এবং ফসফরাস নিয়ন্ত্রণ করা খুব গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত সোডিয়াম রক্তচাপ বাড়ায়, ফোলাভাব সৃষ্টি করে এবং তৃষ্ণা বাড়ায়। তাই লবণাক্ত খাবার, আচার, চিপস, ক্যানজাত খাবার খাওয়া উচিত নয়। পটাশিয়াম বেশি থাকলে হার্টের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে। কলা, কমলা, টমেটো বা আলু এড়িয়ে চলা দরকার। এর পরিবর্তে আপেল, আঙুর বা বেরি জাতীয় ফল খাওয়া নিরাপদ। ফসফরাস বেশি থাকলে হাড় দুর্বল হয়ে যায়। দুধ, বাদাম, ডাল বা কোলা জাতীয় পানীয় সীমিত রাখতে হবে। অনেক সময় ডাক্তার ফসফেট বাইন্ডার ওষুধও দেন।
ডায়ালাইসিস রোগীর জন্য তরল নিয়ন্ত্রণ খুব জরুরি। বেশি পানি, জুস, স্যুপ, আইসক্রিম বা তরমুজ খেলে শরীরে পানি জমে যায়, ফলে শ্বাসকষ্ট, ফোলাভাব ও হৃদযন্ত্রে চাপ সৃষ্টি হয়। তাই তরল নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে রাখতে হবে।
এছাড়াও, কিছু ভিটামিন ও খনিজ ডায়ালাইসিসের মাধ্যমে শরীর থেকে বেরিয়ে যায়। এজন্য বিশেষ কিডনি-বান্ধব ভিটামিন ডাক্তার বা ডায়েটিশিয়ানের পরামর্শ অনুযায়ী খেতে হবে।
সবশেষে বলা যায়, কিডনি ডায়ালাইসিস রোগীদের জন্য খাদ্যাভ্যাস হওয়া উচিত প্রোটিন সমৃদ্ধ, সোডিয়াম-পটাশিয়াম-ফসফরাস নিয়ন্ত্রিত এবং তরল নিয়ন্ত্রিত। সঠিক খাদ্যাভ্যাস রোগীকে সুস্থ রাখতে, জটিলতা কমাতে এবং স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে।

Comments
Post a Comment