অ্যালার্জি সৃষ্টিকারী খাবার ও প্রতিকার
অ্যালার্জি সৃষ্টিকারী খাবার ও প্রতিকার:
বর্তমান যুগে অ্যালার্জি একটি খুবই সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যা। অ্যালার্জি বলতে বোঝায় দেহের প্রতিরোধ ব্যবস্থা যখন কোনো বিশেষ পদার্থকে ক্ষতিকারক ভেবে অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া দেখায়। বিশেষত কিছু খাবার খাওয়ার পরই এ ধরনের সমস্যা বেশি দেখা যায়। তাই অ্যালার্জি সম্পর্কে সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি।
অ্যালার্জি সৃষ্টিকারী প্রধান খাবারসমূহ:
মানুষ ভেদে অ্যালার্জি ভিন্ন হয়। তবে কিছু খাবার রয়েছে যেগুলো সাধারণভাবে অনেকের শরীরে অ্যালার্জি তৈরি করে থাকে। যেমন –
১. দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার – শিশু ও কিশোরদের মধ্যে বেশি দেখা যায়।
২. ডিম – বিশেষ করে ডিমের সাদা অংশে অ্যালার্জি বেশি হয়।
৩. বাদাম – চিনাবাদাম, কাজুবাদাম, আখরোট প্রভৃতি অনেকের শরীরে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।
৪. সামুদ্রিক খাবার – মাছ, চিংড়ি ও ঝিনুক প্রভৃতিতে অ্যালার্জি সাধারণ ব্যাপার।
৫. গম ও গ্লুটেন – গমের রুটি, বিস্কুট বা পাস্তা ইত্যাদিতে অনেকের সমস্যা দেখা দেয়।
৬. সয়াবিন ও সয়া জাতীয় খাদ্য – বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে এ ধরনের অ্যালার্জি দেখা যায়।
অ্যালার্জি প্রতিক্রিয়ার লক্ষণ:
অ্যালার্জি হলে সাধারণত শরীরে কিছু বিশেষ লক্ষণ দেখা যায়। যেমন –
-
চুলকানি বা র্যাশ
-
চোখ ও নাক দিয়ে পানি পড়া
-
শ্বাসকষ্ট
-
পেটের ব্যথা, বমি বা ডায়রিয়া
-
গুরুতর অবস্থায় এনাফাইল্যাক্সিস (শ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়া বা জীবনহানির ঝুঁকি)
অ্যালার্জি প্রতিকার ও প্রতিরোধের উপায়:
অ্যালার্জি দূর করার সহজতম উপায় হলো অ্যালার্জি সৃষ্টিকারী খাবার সম্পূর্ণভাবে এড়িয়ে চলা। তবে কিছু কার্যকর পদ্ধতি হলো –
-
নতুন কোনো খাবার খাওয়ার আগে সামান্য পরিমাণে পরীক্ষা করা।
-
সবসময় খাবারের গায়ে লেখা উপাদান ভালোভাবে পড়া।
-
নিয়মিত ডাক্তারের পরামর্শে অ্যালার্জি পরীক্ষা (Allergy Test) করানো।
-
অ্যালার্জি হলে অ্যান্টিহিস্টামিন বা ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন।
-
গুরুতর অবস্থার জন্য জরুরি ওষুধ যেমন ইপিপেন (EpiPen) সঙ্গে রাখা।
-
শিশুদের অ্যালার্জি সম্পর্কে পরিবার ও শিক্ষককে অবহিত রাখা।
উপসংহার:
অ্যালার্জি একটি সাধারণ কিন্তু অবহেলার কারণে মারাত্মক হয়ে উঠতে পারে। তাই সচেতনতা, সতর্কতা ও নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সঠিকভাবে জীবনযাপন ও খাবার বাছাই করলে অ্যালার্জির ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

useful post
ReplyDelete