ঘরের ধুলো না বাইরের বাজারের ধুলো – কোনটা বেশি ক্ষতিকর?
ঘরের ধুলো না বাইরের বাজারের ধুলো – কোনটা বেশি ক্ষতিকর?
ধুলো হলো এক ধরনের অদৃশ্য দূষণ, যা আমাদের চারপাশে সব সময় ভাসতে থাকে। ধুলো শ্বাসনালী, চোখ ও ত্বকের জন্য ক্ষতিকর। তবে ঘরের ধুলো এবং বাইরের বাজারের ধুলোর মধ্যে ক্ষতিকর দিকগুলো আলাদা। নিচে তা পয়েন্ট আকারে তুলে ধরা হলো।
ঘরের ধুলো
-
উৎপত্তি – ঘরের ধুলো আসে কাপড়-চোপড়, বিছানা, আসবাব, রান্নাঘর ও মানুষের শরীর থেকে।
-
ক্ষতিকর উপাদান – এতে থাকে ধুলিকণা, মৃত চামড়া, চুল, ছত্রাক, ধুলোকণা পোকা (dust mites) ইত্যাদি।
-
স্বাস্থ্য ঝুঁকি –
-
হাঁপানি রোগীদের জন্য খুব বিপজ্জনক।
-
অ্যালার্জি ও সর্দি-কাশি বাড়ায়।
-
শিশু ও বৃদ্ধদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়।
-
-
নিয়ন্ত্রণযোগ্যতা – ঘরের ধুলো নিয়মিত ঝাড়ু, মুছা, ভ্যাকুয়াম ক্লিনার ব্যবহার ও বিছানার চাদর পরিষ্কার করলে অনেকটাই কমানো যায়।
বাইরের বাজারের ধুলো
-
উৎপত্তি – বাজারে ধুলো আসে রাস্তার ধুলো, গাড়ির ধোঁয়া, পশু-পাখির বর্জ্য, নোংরা পরিবেশ ও পচা-গলা জিনিসপত্র থেকে।
-
ক্ষতিকর উপাদান – ধুলোতে থাকে জীবাণু, ব্যাকটেরিয়া, রাসায়নিক কণা, সীসা ও অন্যান্য ভারী ধাতুর কণা।
-
স্বাস্থ্য ঝুঁকি –
-
শ্বাসকষ্ট, ব্রঙ্কাইটিস, নিউমোনিয়া ইত্যাদি রোগ সৃষ্টি করে।
-
খাবারের উপর বসে খাদ্যে বিষক্রিয়া ঘটায়।
-
দীর্ঘদিন শ্বাসের সাথে শরীরে গেলে ফুসফুসের ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়।
-
-
নিয়ন্ত্রণযোগ্যতা – বাজারের ধুলো পুরোপুরি এড়ানো কঠিন, কারণ এটি জনসমাগম ও খোলা পরিবেশের সাথে সম্পর্কিত।
তুলনা
-
ঘরের ধুলো বেশি ক্ষতিকর অ্যালার্জি ও হাঁপানির রোগীদের জন্য।
-
বাজারের ধুলো বেশি ক্ষতিকর সাধারণ মানুষের জন্য, কারণ এতে বিষাক্ত রাসায়নিক ও জীবাণু থাকে।
-
ঘরের ধুলো নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হলেও, বাজারের ধুলো নিয়ন্ত্রণ করা অনেক কঠিন।
উপসংহার
সর্বোপরি, ঘরের ধুলো আমাদের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও বাজারের ধুলোতে আমরা অসহায়। তাই বলা যায়, বাজারের ধুলো তুলনামূলকভাবে বেশি ক্ষতিকর। তবে উভয় ক্ষেত্রেই সচেতন থেকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখাই সুস্থ জীবনের মূল চাবিকাঠি।

Comments
Post a Comment